― Advertisement ―

spot_img

জাবাল ই নূর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান ২০২৬ অনুষ্ঠিত

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক্তার দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু জাবাল ই নূর ফাউন্ডেশনের শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ইসলামী শিক্ষা সম্প্রসারণে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ...
প্রচ্ছদসারা বাংলাফুটপাতে সফল সালাউদ্দিন বাবু, মাদক নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান

ফুটপাতে সফল সালাউদ্দিন বাবু, মাদক নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান

শেখ নজরুল ইসলাম, সাভার প্রতিনিধিঃ ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকেই রাজনৈতিক বক্তব্যের চেয়ে জনদুর্ভোগ নিরসন ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে আলোচনায় আসেন। বিশেষ করে মাদক নিয়ন্ত্রণ, নতুন গ্যাস সংযোগ এবং পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের মতো জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বক্তব্য দিয়ে তিনি প্রশংসা কুড়ান।

নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি সাভার ও আশুলিয়ার ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেন। হকারদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য ফুটপাত উন্মুক্ত করে দেন তিনি। এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলে। এছাড়া পবিত্র রমজান মাসে যানজট নিরসনে তিনি নিজে সড়কে উপস্থিত থেকে স্কাউট ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করেন।

পরবর্তীতে মাদক নিয়ন্ত্রণ ইস্যুকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখেন ডা. সালাউদ্দিন বাবু। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে পূর্ববর্তী সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় মাদক ব্যবসা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সাভার-আশুলিয়ার অধিকাংশ গ্রামেই মাদকের প্রভাব বিস্তার করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, একটি চক্র অবৈধভাবে মাদক ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল অর্থসম্পদের মালিক হয়েছে এবং এখনো এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে যুব সমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে এবং পরিবারগুলো বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ মাদকের এই ভয়াবহতা আর সহ্য করতে পারছে না। জনগণের প্রত্যাশা, সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করবে এবং সাভার-আশুলিয়ার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

ডা. সালাউদ্দিন বাবুর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মে মাস থেকে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দেন। তবে স্থানীয়দের মতে, এখনো সেই কঠোর অভিযানের দৃশ্যমান বাস্তবায়ন পুরোপুরি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

এদিকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে এক সভায় ‘বাবু ভাই’ নামে পরিচিত এই নেতা মাদকবিরোধী অবস্থান আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কোনো এলাকায় মাদক ব্যবসা চললেও যদি স্থানীয় নেতারা নীরব থাকেন, তাহলে তারা প্রকৃত নেতৃত্বের যোগ্য নন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেন না, তারা কিসের নেতা বা জনপ্রতিনিধি।

আরও পড়ুনঃ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বাস্কেটবলে রাবিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ইবি

তিনি আরও বলেন, যারা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদ চান, জনপ্রতিনিধি হতে চান বা তার আশপাশে থাকতে চান, তাদের অবশ্যই নিজ নিজ এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের হাতে তুলে না দিলে তারা কোনো ধরনের রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

তার এই বক্তব্যের পর তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী মাদকবিরোধী উঠান বৈঠক, জুমার নামাজে সচেতনতামূলক আলোচনা এবং স্থানীয়ভাবে মাদক নির্মূল কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিতে শুরু করেছেন।

তবে মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে গবেষক ও সমাজের বিশিষ্টজনেরা মনে করেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে মাদক সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। তাদের মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণে সর্বদলীয় অংশগ্রহণ ও সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বয়ে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। একইসঙ্গে মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন, বিকল্প কর্মসংস্থান এবং সামাজিকভাবে পুনর্গঠনের দিকেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।