― Advertisement ―

spot_img

বগুড়ায় ৫ দফা দাবিতে বিড়ি শ্রমিকদের মানববন্ধন

বগুড়ায় পাঁচ দফা দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন বিড়ি শ্রমিকরা। বুধবার (১৩ মে) বেলা ১১টায় বগুড়া কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসের সামনে আয়োজিত...
প্রচ্ছদকলামভিন্নমতনতুন করে করোনার চোখ রাঙানি, প্রয়োজন সতর্কতা

নতুন করে করোনার চোখ রাঙানি, প্রয়োজন সতর্কতা

পাঁচ বছর আগে বিশ্বজুড়ে প্রাণঘাতী রূপ নিয়ে আঘাত হেনেছিল করোনা ভাইরাস। ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়, আর ১৮ মার্চ রেকর্ড হয় প্রথম মৃত্যুর খবর। পরবর্তীতে এটি মহামারী আকার ধারণ করে সারাবিশ্বে বিপর্যয় নামিয়ে আনে। ২০২১ সালের আগস্টে এক দিনে সর্বোচ্চ ২৬৪ জনের মৃত্যু ঘটে। সেই স্মৃতি আজও মানুষ ভুলতে পারেনি। পরে ২০২৩ সালের মে মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। কিন্তু করোনা আবারও ধীরে ধীরে ফিরে আসছে নতুন রূপে—নতুন উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।

২০২৪ সালের জানুয়ারি মাস থেকে আবার মাথাচাড়া দেয় ওমিক্রনের উপধরন ‘জেএন-১’। এটি দ্রুত সংক্রমণশীল হওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে ‘ভেরিয়েন্ট অব ইন্টারেস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করে। বাংলাদেশে বর্তমানে ওমিক্রনের নতুন সাবভ্যারিয়েন্ট—এলএফ-৭, এক্সএফজি, জেএন-১ এবং এনবি-১.৮.১—বিভিন্ন দেশ থেকে ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। গত এপ্রিল মাসে দেশে আক্রান্ত ছিল ২৩ জন, মে মাসে সেই সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৬-এ, আর চলতি জুন মাসের প্রথম ৯ দিনেই আক্রান্ত ৪৫ জন এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ বিভিন্ন জায়গায় নতুন ভ্যারিয়েন্টের প্রকোপ বাড়ায় বাংলাদেশেও সতর্কতা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে দেশের সব বিমানবন্দর, স্থল ও নৌবন্দরে আইএইচআর স্বাস্থ্য ডেস্কে সতর্কতা জারি, স্ক্রিনিং ও সার্ভেল্যান্স জোরদার করা হয়েছে। থার্মাল স্ক্যানার ও নন-টাচ থার্মোমিটার ব্যবহার করে আগত যাত্রীদের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য মাস্ক, গ্লাভস ও সুরক্ষাবস্ত্রের মজুদ নিশ্চিত করার কাজও চলেছে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট আরও ভয়ংকর রূপ নিতে পারে। তাই ব্যক্তিগত সচেতনতা জরুরি। নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার, সামাজিক দূরত্ব রক্ষা, অপ্রয়োজনে মুখ স্পর্শ না করা, হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু ব্যবহার, এবং সংক্রমিত ব্যক্তিকে আইসোলেশনে রাখা—এসবই কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা।

এছাড়া যারা তিন ডোজ টিকা নিয়েছেন, তারাও যদি স্বাস্থ্যবিধি না মানেন, তবুও নতুন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায় বলে মত দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

আরও পড়ুনঃ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সংকট

তাই করোনা প্রতিরোধে এখনই ত্রিমুখী প্রস্তুতি দরকার—স্বাস্থ্যখাতকে মজবুত করা, হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন ও ওষুধের পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করা এবং সর্বোপরি জনগণকে সচেতন করা। ২০২০ সালের বিভীষিকা যেন আর ফিরে না আসে, সে জন্য সরকার ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই একমাত্র পথ।

করোনার প্রত্যাবর্তন মানে শুধু ভাইরাসের ফিরে আসা নয়, বরং এক নতুন বাস্তবতা—যার চাবিকাঠি আমাদের সচেতনতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ। সবার সহযোগিতায়ই রক্ষা করা সম্ভব হবে নিজেদের, সমাজকে এবং দেশকে।