
তাওহিদ ইসলাম, ইবি প্রতিনিধিঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) সায়েন্স ক্লাবের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী জাতীয় বিজ্ঞান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) ও মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ উৎসবে দেশের শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
পূবালী ব্যাংক পিএলসির পৃষ্ঠপোষকতা ও সোহান’স কোচিংয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এ উৎসবে প্রজেক্ট প্রদর্শনী, বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড, পোস্টার প্রেজেন্টেশন, ট্রেজার হান্ট, রুবিক্স কিউবসহ বিভিন্ন জ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতা এবং ৪ডি ও ৯ডি মুভি শোর আয়োজন করা হয়।
উৎসবের প্রথম দিন বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। পরে এক্সিবিশন হলে প্রজেক্ট শোকেস, সায়েন্স গ্যালারিতে পোস্টার প্রেজেন্টেশন, সেমিনার রুমে থ্রি মিনিট প্রেজেন্টেশন এবং ইনডোর গেমস রুমে দাবা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া মূল অডিটোরিয়ামে সায়েন্স বিঙ্গো এবং থিয়েটার রুমে ৪ডি ও ৯ডি মুভি শো অনুষ্ঠিত হয়।
দ্বিতীয় দিনে বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ও রুবিক্স কিউব প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি ক্যাম্পাসজুড়ে ট্রেজার হান্ট এবং বিকেলে মুভি শোর আয়োজন করা হয়। পরে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসব শেষ হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে সায়েন্স ক্লাবের সভাপতি জুনাইদুল মোস্তফার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার ড. জাহাঙ্গীর আলম।
এছাড়া ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পূবালী ব্যাংক পিএলসি-এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাহনেওয়াজ খান এবং ‘চিফ প্যাট্রন’ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির উপদেষ্টা ও ইবি আইসিটি সেলের পরিচালক ড. শাহজাহান আলী।
আরও পড়ুনঃ ডিসেম্বরেই এসএসসি? উদ্বেগে শিক্ষার্থী-অভিভাবক, সিদ্ধান্তে অনিশ্চয়তা
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এ ধরনের বিজ্ঞানভিত্তিক আয়োজন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও গবেষণামুখী মানসিকতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উপাচার্য ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, “সায়েন্স ক্লাবের এই আয়োজন পূর্ণতা পেত না, যদি বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা এখানে অংশগ্রহণ না করত। বিজ্ঞানের জ্ঞান সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আমরা যত বেশি বিজ্ঞানচর্চা করব, সমাজ তত এগিয়ে যাবে।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের ইনোভেটিভ চিন্তা, গবেষণার আগ্রহ ও নতুন কিছু তৈরির মানসিকতা গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু পাঠমুখী নয়, গবেষণামুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”



