
তাওহিদ ইসলাম, ইবি প্রতিনিধিঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের এক বছর অতিবাহিত হওয়ায় স্মৃতিচারণ, দোয়া ও মাগফিরাত কামনায় ‘স্মরণে শহীদ সাজিদ আব্দুল্লাহ’ শীর্ষক ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ‘জাস্টিস ফর সাজিদ আব্দুল্লাহ’ ব্যানারে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত, জাতীয় ছাত্রশক্তি ইবি শাখার আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
পবিত্র আল-কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে শহীদ সাজিদ আব্দুল্লাহকে স্মরণ করে কবিতা আবৃত্তি, তার প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ‘মেহফিল’-এর পরিবেশনায় কাওয়ালি, তার জীবন ও কর্ম নিয়ে স্মৃতিচারণ, দ্রোহের কবিতা পাঠ এবং তাকে নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র (ডকুমেন্টারি) প্রদর্শন করা হয়। সবশেষে তার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
স্মৃতিচারণ পর্বে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ইবি শাখার সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত বলেন, “সাজিদ ক্যাম্পাসে আসার পর থেকেই আমাদের পরিচয়। আমরা একসঙ্গে শবে বরাত, মহররম ও আশুরাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজন করেছি। সাজিদ ছিল সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো আমাদের একজন সহযোদ্ধা। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা হোক।”
আরও পড়ুনঃ বুটেক্সের শহীদ আজিজ হলে আবারও চুরি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ
শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ বলেন, “ক্যাম্পাসে যখনই তার সঙ্গে দেখা হয়েছে, তাকে সবসময় হাসিখুশি দেখেছি। সে একজন হাফেজ ছিল। একটি সন্তানকে হাফেজ হিসেবে গড়ে তুলতে একটি পরিবারের কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, তা আমরা জানি। আমি বর্তমান প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাই, সাজিদ হত্যার দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে বিচার নিশ্চিত করা হোক এবং তার পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হোক।”
উপস্থিত শিক্ষার্থীরা বলেন, সাজিদ আব্দুল্লাহর হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও দাবি অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ জুলাই বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলসংলগ্ন পুকুর থেকে সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে ৩ আগস্ট প্রকাশিত ভিসেরা প্রতিবেদনে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। বর্তমানে হত্যাকাণ্ডের বিচার ও তদন্ত কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ রয়েছে।



