― Advertisement ―

spot_img

আলীকদমে আদালত চালু করতে আইনমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন প্রতিমন্ত্রী হেলাল

আলি উল আজিম নিলয়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বান্দরবানের দুর্গম উপজেলা আলীকদমে দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর হয়ে থাকা ‘সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত’ (আলীকদম চৌকি) পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও নিয়মিত...
প্রচ্ছদশিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গনক্যাম্পাসমিটফোর্ডে চিকিৎসা-ভোগান্তির অভিযোগ, স্ত্রী-নবজাতক হারালেন জবি ছাত্রদল নেতা

মিটফোর্ডে চিকিৎসা-ভোগান্তির অভিযোগ, স্ত্রী-নবজাতক হারালেন জবি ছাত্রদল নেতা

আলি উল আজিম নিলয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে চিকিৎসাসংক্রান্ত ভোগান্তির অভিযোগ ওঠার কয়েক সপ্তাহের মাথায় নিজের স্ত্রী ও নবজাতক সন্তান—দুজনকেই হারিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ওহিদুর রহমান নিক্সন।

গত বৃহস্পতিবার রাতে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। এ মর্মান্তিক ঘটনায় পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জানা যায়, গত ২৫ জুন প্রসূতিজনিত জটিলতা নিয়ে নিক্সন তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উত্তেজনাকর পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়।

ওই রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের কাছে রোগীর দ্রুত চিকিৎসার দাবি জানান। তার অভিযোগ, বারবার অনুরোধ করা হলেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।

এ প্রসঙ্গে মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে আমি কয়েকবার আমার সংগঠনের পরিচয় দিয়ে অনুরোধ করি। কিন্তু তারা বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু করেন। একপর্যায়ে আমি চিকিৎসকদের সংঘবদ্ধ আচরণের শিকার হই। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।”

তিনি আরও বলেন, “ওই মানবিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাকে নিয়ে মিডিয়ায় হলুদ সাংবাদিকতা করা হয়েছে। সংঘবদ্ধভাবে ছাত্রদল ও আমাকে জড়িয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়। সেদিন তাদের কাছে মানবিকতার চেয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যই মুখ্য ছিল। সেই সাংবাদিকরা আজ নিশ্চুপ। আমরা শুধু একজন মায়ের জীবন বাঁচাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মা ও নবজাতক—দুজনকেই হারালাম। এই ক্ষতির দায় কি কেউ নেবে?”

আরও পড়ুনঃ ইবিতে সাজিদ হত্যার এক বছর: স্মরণে শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী আয়োজন

স্ত্রী ও নবজাতকের মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, স্ত্রীকে বাঁচাতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগ ও চিকিৎসকের দ্বারস্থ হন নিক্সন। সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও স্ত্রী ও নবজাতককে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তাদের মতে, এ ক্ষতি অপূরণীয় এবং ভাষায় প্রকাশের অতীত।

এদিকে, এখন পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে শুরু হওয়া তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলও প্রকাশ করা হয়নি।

নিক্সনের পরিবার এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।