
আলি উল আজিম নিলয়, জবি প্রতিনিধিঃ আর্থিক অনিয়ম, স্বাক্ষর জালিয়াতি, সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে টেন্ডারবাজির চেষ্টা, ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ একাধিক অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির (জবিরিইউ) সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলমকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) উপদেষ্টা মণ্ডলীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের লিখিত অনাস্থা এবং অন্য সদস্যদের মৌখিক সমর্থনের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে, জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা, বিভিন্ন সংগঠনের কাছে অর্থ দাবি, সংগঠনের প্যাডের অননুমোদিত ব্যবহার এবং কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা এবং আওয়ামী লীগ-সমর্থক কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে তাঁদের স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা পালনের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডকে সংগঠনের গঠনতন্ত্র, নীতিমালা এবং সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ডের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একই ধরনের অভিযোগে এর আগেও তাঁকে দুই দফা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। প্রথম নোটিশের জবাবে তিনি নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং নিজেকে মানসিকভাবে অসুস্থ বলে উল্লেখ করেন। মানবিক বিবেচনায় তাঁকে আরেকটি সুযোগ দেওয়া হলেও দ্বিতীয় নোটিশের কোনো জবাব তিনি দেননি এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেকেও বিরত থাকেননি।
আরও পড়ুনঃ জবি রিপোর্টার্স ইউনিটির আহ্বায়ক সম্পদ, সদস্যসচিব মাহফুজ
জবিরিইউ জানায়, উপদেষ্টা মণ্ডলীর উপস্থিতিতে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের মতামত ও লিখিত অনাস্থা পর্যালোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বহিষ্কারের পর জাহাঙ্গীর আলম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির নাম, পরিচয়, লোগো, প্যাড বা অন্য কোনো সাংগঠনিক উপকরণ ব্যবহার করতে পারবেন না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া ভবিষ্যতে তিনি সংগঠনের নাম বা প্যাড ব্যবহার করে কোনো ধরনের কার্যক্রম, সুপারিশ বা আর্থিক-অনার্থিক লেনদেনের চেষ্টা করলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তাঁর সঙ্গে সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কেউ কোনো লেনদেন করলে তার দায় জবিরিইউ বহন করবে না বলেও সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।



