― Advertisement ―

spot_img

মে দিবস: শ্রমিকের অধিকার ও ন্যায্য মর্যাদার প্রতীক

পহেলা মে, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস(মে দিবস) হিসেবে পরিচিত এই দিনটি শ্রমজীবী মানুষের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতীক। এই দিনের পেছনে রয়েছে এক বেদনাবিধুর...
প্রচ্ছদজাতীয়নির্বাচন যাতে পিছিয়ে না দেয় তাই জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নির্বাচন যাতে পিছিয়ে না দেয় তাই জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, নির্বাচন যাতে বিলম্বিত না হয় সেই লক্ষ্যেই বিএনপি জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছে। তিনি দাবি করেন, দলটি শুরু থেকেই জানিয়ে এসেছে যে স্বাক্ষরিত সনদের বাইরে অন্য কোনো প্রস্তাব তারা মেনে নেবে না।

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন সংস্কারের নামে নির্বাচন ঠেকানোর আশঙ্কা থেকেই তাদের ওই অবস্থান নিতে হয়েছে। তিনি বলেন, স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদের বাইরে অন্য কিছু তারা মানবেন না এবং এ কথা তাদের দল শুরু থেকেই বলে এসেছে।

তিনি বলেন, আমাদের একটা তাগাদা ছিল যে এরা সংস্কারের বাহানায় যদি নির্বাচন না হতে দেয়, সেজন্য আমরা সব কিছুতে আপস করে জুলাই জাতীয় সনদেও স্বাক্ষর করেছি। একত্রিত হয়েছি, সমঝোতা হয়েছে। নির্বাচনের স্বার্থে আমরা অনেক কথা বলিনি। বিএনপি এবং আমাদের সঙ্গে যারা আছে, আমরা কেউ জুলাই জাতীয় সনদের বাইরে অন্য কিছু মানতে রাজি না।

জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে বিরোধীদের বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সনদ থেকে সরে যায়নি, বরং সেটাকেই আঁকড়ে আছে। তিনি বলেন, ৩০টি দলের মধ্যে ২৬টি দল স্বাক্ষর করেছে, চারটি দল করেনি। এনসিপি নিজেও কয়েকটি জায়গায় নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিল। সুতরাং নোট অব ডিসেন্টের বিরোধিতা করে আবার সেটি দেওয়ার সুযোগ নেই।

এই নেতা বলেন, গণভোটের প্রস্তাব তিনিই করেছিলেন। তবে তা ছিল জুলাই জাতীয় সনদকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার জন্য। জুলাই জাতীয় সনদের উপরে গণভোট হলে তাদের আপত্তি থাকত না। কিন্তু পরে জুলাই বাস্তবায়ন আদেশ নামে যে দলিল জারি হয়, তার সঙ্গে বিএনপি একমত ছিল না বলে জানান ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে দলটির নেতৃত্ব দেওয়া সালাহউদ্দিন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই আদেশ এবং তার ভিত্তিতে আনা কিছু প্রশ্নের সঙ্গে স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদের পুরো মিল নেই। যেটা প্রথম থেকেই অবৈধ, সেই জিনিসটার উপরে কোনো সম্মতি ছিল না, রাজনৈতিক ঐকমত্য ছিল না, জুলাই জাতীয় সনদের সঙ্গে কোনো মিল ছিল না।

তিনি বলেন, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন, কিন্তু অধ্যাদেশ দিয়ে সংবিধানের ধারা, উপধারা বা তফশিল বাতিল বা সংশোধন করতে পারেন না। তাই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ সাংবিধানিকভাবে টেকসই নয় বলে তার ভাষ্য।

সালাহউদ্দিন বলেন, সরকার সংসদে সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি করার প্রস্তাব দিয়েছে। সেখানে সব পক্ষের আলোচনা, টার্মস অব রেফারেন্স ও ঐকমত্যের সুযোগ থাকবে। বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা ১২ জনের নাম ঠিক করেছি, আপনারা ১২ জনের নাম দেন। বিরোধীরা এখনো নাম দেয়নি অভিযোগ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংশোধনের পথে না এলে অনেক বিতর্কিত বিষয় বহাল থাকবে।

আরও পড়ুনঃ ক্যারাম খেলাকে কেন্দ্র করে জবিতে থাপ্পড়ের ঘটনা

এদিন আলোচনায় অংশ নিয়ে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা, অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা, জুলাই সনদ, গণভোট, সংবিধান সংশোধন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, ছায়া মন্ত্রিসভা এবং বিগত সরকার আমলের অর্থনৈতিক অনিয়ম নিয়ে বিস্তৃত পরিসরে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট থেকে ৮ অগাস্ট পর্যন্ত সরকারবিহীন অবস্থায় রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় রাষ্ট্রপতি ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর সংসদ কার্যত অচল হয়ে পড়ে, মন্ত্রিপরিষদও ছিল না। এ অবস্থায় রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের আলোকে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ চান, যার ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।

সালাহউদ্দিন বলেন, বর্তমান সরকার একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে এবং সেই নির্বাচন বিশ্বে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। ইউরোপীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য, কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং দেখা যায়নি।

সম্প্রতি পাশ হওয়া জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইনের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা এখন আইনগতভাবে নির্ধারিত হয়েছে। এ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক না করাই ভালো।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান একদিনে তৈরি হয়নি। এর পেছনে দীর্ঘ সময়ের গুম, খুন, নির্যাতন, জেল-জুলুম এবং ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস আছে। তার ভাষায়, জুলাইয়ের কৃতিত্ব কেউ এককভাবে নিতে পারে না।

বক্তব্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাড়তে থাকা কটূক্তি, গালি ও পারিবারিক আক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আছে, কিন্তু তা যুক্তিসংগত সীমাবদ্ধতার অধীন। নইলে সামাজিক, ধর্মীয় ও পারিবারিক সম্প্রীতি নষ্ট হবে।