
মোঃ সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহী মহানগরীকে আধুনিক, বাসযোগ্য ও নিরাপদ নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে দপ্তর ও সংস্থাগুলোর পারস্পরিক সমন্বয় জোরদারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগর ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসন, নাগরিক সেবা সহজীকরণ এবং টেকসই উন্নয়নের রূপরেখা নির্ধারণে এ সভাকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে নগর ভবনের সরিৎ দত্তগুপ্ত সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন। সভায় মহানগরীর বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানরা অংশ নিয়ে রাজশাহীকে স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ, তিলোত্তমা ও শান্তির নগরী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সভা শুরুর আগে আগত অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করা হয় এবং পরে তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এটি পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, নগর উন্নয়নের এই যাত্রা এককভাবে সম্ভব নয়, এটি একটি সম্মিলিত প্রয়াস। তিনি বলেন, “নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে আমরা একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলতে চাই।” তিনি আরও বলেন, রাজশাহীকে শুধু পরিচ্ছন্ন শহর নয়, বরং একটি বাসযোগ্য ও স্বস্তির নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই তাদের লক্ষ্য।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ড. মোঃ জিললুর রহমান সভায় বলেন, নিরাপদ নগর গঠনে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। একটি পূর্ণাঙ্গ সিসিটিভি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা গেলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণ ও যানজট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস.এম তুহিনুর আলম বলেন, পরিকল্পিত নগরায়নের মাধ্যমে রাজশাহীকে একটি মডেল সিটিতে রূপান্তর করা সম্ভব। পদ্মা নদীকে কেন্দ্র করে আধুনিক অবকাঠামো ও আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরীর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সভায় স্বাস্থ্যসেবা খাতের প্রতিনিধিরা নগর স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনবল বৃদ্ধি জরুরি।
মতবিনিময় সভায় নগরীর দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও আলোচনা হয়। এর মধ্যে অবৈধ দখল, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং, যানজট, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং বৈদ্যুতিক ক্যাবল ও অবকাঠামো চুরি প্রতিরোধের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। এসব সমস্যার টেকসই সমাধানে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।
আরও পড়ুনঃ গুচ্ছ ‘এ’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষা কাল, ইবিতে প্রস্তুতি সম্পন্ন
এছাড়া নওদাপাড়ায় বাস টার্মিনাল স্থানান্তর, শিরোইল এলাকায় পার্কিং নিয়ন্ত্রণ, আরডিএ মার্কেট আধুনিকায়ন এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে স্থায়ী কার্যালয়ের জন্য জমি বরাদ্দের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
সভায় পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে নগর উন্নয়নের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন রাসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈন। এতে উপস্থিতদের মধ্যে নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে সুস্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়।
সভা পরিচালনা করেন রাসিক সচিব সোহেল রানা। এসময় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিমসহ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজশাহী খুব শিগগিরই দেশের অন্যতম মডেল নগরীতে পরিণত হবে।



