
বুটেক্স প্রতিনিধি: আসন্ন ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি) নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ৪১তম থেকে ৪৭তম ব্যাচের আইটিইটি সদস্যদের সঙ্গে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা করেছে ‘এনায়েত-সুমায়েল-নিক্সন’ (জিজি) প্যানেল।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাজধানীর ‘দ্যা রয়েল গার্ডেন রেস্টুরেন্টে’ এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জিজি প্যানেল নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. সাঈদুর রহমান (সাঈদ)। সভা সঞ্চালনা করেন জিজি প্যানেলের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী প্রকৌশলী পৃথ্বিলা কামাল।
পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও গীতাপাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে জিজি প্যানেলের মহাসচিব পদপ্রার্থী প্রকৌশলী এ. এস. এম. হাফিজুর রহমান নিক্সন প্যানেলের প্রার্থীদের উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতি পদপ্রার্থী প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন বলেন, আইটিইটি দীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে ভাড়া অফিসে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনের নিজস্ব ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি রাজউক থেকে বরাদ্দ পাওয়া ১০ কাঠা জমির তৃতীয় কিস্তির অর্থ পরিশোধ করেছে। সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ আইটিইটি ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পাশের আরও ১০ কাঠা জমি বরাদ্দ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের পেশাগত উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য বিসিএস ক্যাডার চালু করা তাদের অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি সংগঠনকে আরও কার্যকর ও সদস্যবান্ধব করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সময়ে আইটিইটির ওয়েবসাইট চালু, ক্যারিয়ার ফেয়ার, সেমিনার, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, ইফতার মাহফিল ও পিঠা উৎসবসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠনকে সক্রিয় করার চেষ্টা করা হয়েছে। ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে অসচ্ছল ও চিকিৎসা সহায়তাপ্রার্থী সদস্যদের সহযোগিতাও করা হয়েছে।
জিজি প্যানেল নির্বাচিত হলে সদস্যদের জন্য লাইফ ইন্স্যুরেন্স চালু, কর্মক্ষেত্রে হয়রানির শিকার টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের আইনি সহায়তা প্রদান এবং আইটিইটিতে স্থায়ী আইন উপদেষ্টা নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ফোরামের সভাপতি প্রকৌশলী এ টি এম শামসুদ্দিন খান বলেন, জিজি প্যানেলের ২৭ জন প্রার্থী একে অপরের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার সক্ষমতা রাখেন। একটি মানবদেহের প্রতিটি অঙ্গ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি প্যানেলের প্রতিটি প্রার্থীই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, টেক্সটাইল খাতে বিভিন্ন সময় নেওয়া উদ্যোগ দেশের শিল্পখাতকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছে। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে টেক্সটাইল শিক্ষাকে ডিপ্লোমা থেকে ডিগ্রিতে উন্নীত করার মাধ্যমে উন্নয়নের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি প্রথা চালুর ফলে দেশের গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল খাত বড় সুবিধা পেয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বিশেষ বৃত্তি পাচ্ছেন জবির ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী
তিনি আরও বলেন, প্যানেল বিজয়ী হলে টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের ঘোষিত গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো বাস্তবায়নে কাজ করা হবে।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে প্রকৌশলী মো. সাঈদুর রহমান (সাঈদ) বলেন, আইটিইটি নির্বাচন শুধু ভোটের আয়োজন নয়, এটি টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের মিলনমেলা ও উৎসব। ১৯৮৪ সাল থেকে সংগঠনের নির্বাচন ঐক্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি করে আসছে।
তিনি বলেন, ৪১তম থেকে ৪৭তম ব্যাচের তরুণ প্রকৌশলীদের উপস্থিতি আইটিইটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। দক্ষ, অভিজ্ঞ ও সমন্বিত প্রার্থীদের নিয়ে এই প্যানেল গঠন করা হয়েছে। টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের মর্যাদা বৃদ্ধি, সংগঠনের কার্যকর নেতৃত্ব এবং সদস্যদের স্বার্থরক্ষায় তারা কাজ করবেন।
সভায় জিজি প্যানেলের অন্যান্য প্রার্থীরাও বক্তব্য রাখেন। পাশাপাশি ৪১তম থেকে ৪৭তম ব্যাচের ভোটার প্রকৌশলীরা আইটিইটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।



