― Advertisement ―

spot_img

রসায়ন ফ্রি মডেল টেস্ট- ১ ( SSC Chemistry MCQ)

রসায়ন মডেল টেস্ট - Chemistry MCQ (বহুনির্বাচনি) পরীক্ষা দিয়ে নিজের প্রস্তুতি যাচাই করে নিন। এসএসসি পরীক্ষায় রসায়নে A+ পাওয়ার দৌরে এগিয়ে যান।এসএসসি পরীক্ষায় ভালো...
প্রচ্ছদসারা বাংলাকালীগঞ্জে ধর্ষণ ও নবজাতক হত্যায় প্রেমিকযুগল আটক

কালীগঞ্জে ধর্ষণ ও নবজাতক হত্যায় প্রেমিকযুগল আটক

মোঃ মুক্তাদির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার: গাজীপুরের কালীগঞ্জে ধর্ষণের ঘটনায় গর্ভধারণের পর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে নবজাতক কন্যাকে হত্যা করার অভিযোগে প্রেমিকযুগলকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে বিসমিল্লাহ ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ট্রমা জেনারেল হাসপাতালের ময়লার ঝুড়ি থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধারের পর এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।

থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৩ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে হাসপাতালের মহিলা ওয়াশরুমে নবজাতকের মরদেহ পাওয়া যায়। লাশটির মুখে টয়লেট টিস্যু গুঁজে দেওয়া ছিল এবং নাড়ি প্রায় দুই ইঞ্চি উপরে থেকে কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়। হাসপাতালের পরিচালক মো. শহীদ মুন্সি বিষয়টি লিখিতভাবে থানায় জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।

পরে পুলিশ হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কালীগঞ্জ পৌরসভার দক্ষিণ ভাদার্ত্তী গ্রামের আব্দুল লতিফের মেয়ে অপরাজিতা (১৫)-কে শনাক্ত করে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, একই গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে তুহিন ইসলাম (১৬)-এর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কের ফলে সে গর্ভবতী হয়ে পড়ে।

অপরাজিতা আরও জানায়, শুক্রবার দুপুরে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলে তার প্রসব বেদনা ওঠে এবং মহিলা ওয়াশরুমে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। নবজাতকটি না কাঁদায় সে নিজেই নাড়ি কেটে মুখে টিস্যু পেঁচিয়ে ময়লার ঝুড়িতে ফেলে বাড়ি ফিরে যায়।

আরও পড়ুনঃ জয়পুরহাটে সেনাবাহিনীর অভিযানে ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক

পরে পুলিশ তুহিনকেও আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে সে ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করে। এই ঘটনায় হাসপাতালের পরিচালক মো. শহীদ মুন্সি বাদী হয়ে শনিবার (৪ অক্টোবর) নবজাতক হত্যার অভিযোগে অপরাজিতার বিরুদ্ধে ৫(১০)২৫ নম্বর মামলা দায়ের করেন। রবিবার (৫ অক্টোবর) ধর্ষণের অভিযোগে অপরাজিতার মা মোছা. জেসমিন আক্তার বাদী হয়ে তুহিনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা (৭(১০)২৫) দায়ের করেন।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলাউদ্দিন বলেন, “হাসপাতালের ময়লার ঝুড়িতে নবজাতকের লাশ পাওয়ার পর আমরা তদন্ত শুরু করি। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে এক কিশোরীকে শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে স্বীকার করে যে, ধর্ষণের ফলে গর্ভধারণ করে চিকিৎসা নিতে গিয়ে নবজাতকের মৃত্যু হলে সেটিকে ময়লার ঝুড়িতে ফেলে যায়। পরবর্তীতে ধর্ষক তুহিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পৃথক দুটি মামলা হয়েছে এবং উভয় আসামিকে রবিবার দুপুরে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এমন নির্মম ঘটনার বিচার দাবি করেছেন।